কবি মধুসূদন দরিপা
দুটি কবিতায়
কবি মধুসূদন দরিপা
লেপ্রসি কলোনি
ফলগুলি থরে থরে সাজানো ফলের দোকানে
ঈশ্বরের বাগানের ফল
পাখিটি ফল খেল
পোকাটি ফল খেল
কাল-পাখি । কাল-পোকা । কালকূট !
ক্ষত হল শত অঙ্গ
পাখি কাটা পোকা চাটা ফল
লাগে না পূজায়
ফেলে দেয় সব
শহর থেকে দূরে আঁস্তাকুড়ে
খাল বিল নালা নদীতে
একান্তে বাস করে সেইসব ফল
নির্বাসিত পল্লীসমাজে
সপ্তাহে একদিন দুইদিন টানা চাকার গাড়িটি ঠেলে এনামেল বাটিতে কুড়ায় মুদ্রা
পথচারী পদাতিক মানুষের দান
ব্রাত্য ফল কিছু সারি বেঁধে বসে থাকে মন্দিরের ধারে
ভক্ত জন আসে দূর থেকে ছোঁড়ে টাকা এক দুই পাঁচ
ঈশ্বরের চাতালে বসে ঈশ্বরের বাগানের অভিশপ্ত ফল ঈশ্বরের লীলা দেখে যায়
আরও দেখে বিস্ময়ে আপনার শত ক্ষত অঙ্গগুলি ছুঁয়ে
অক্ষত নয় ঠিক তবু এত দিন ধরে
পচন ধরেনি এতটুকু অক্ষতদের মতো
বেলুন
বেলুনের মধ্যে হাওয়া থাকে না
বেলুনের মধ্যে হাওয়া ভরতে হয়
যত বেশি হাওয়া ভরা হয়
বেলুন তত বেশি ফাঁপা হয়
ফাঁপা বেলুন সহজেই ভাসতে পারে
ফাঁপা বেলুন সহজেই উড়তে পারে
ফাঁপা বেলুনের ওজন কম তাই
মাটিতে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না
ঠিক যেমন একটি ফাঁপা মানুষ
ফাঁপা বেলুন কিম্বা ফাঁপা মানুষ
দুজনেই ছোট্ট একটি আলপিনের ধাক্কায়
ফেটে যায় চুপসে যায়
ফেটে যাওয়া বেলুনে হাওয়া ভরা যায় না
তাই সে আর ফেঁপে ওঠে না
কিন্তু চুপসে যাওয়া মানুষের মধ্যে হাওয়া ভরলে সে আবার ফেঁপে ওঠে
এমন কি মরার পরও মানুষ আবার ফুলে ওঠে
যেটি বেলুনের কম্মো নয়

প্রথমটিতে কবির সহমর্মিতা বা মানবপ্রেমের প্রকাশ । ভাষা সহজ সরল । অকপট ।
ReplyDeleteদ্বিতীয়টি বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ । সাংকেতিক । যে কোনও ক্ষেত্রেই কথাটি প্রযোজ্য হতে পারে । তবে কবির আবেদন শুধু সাময়িক কালের জন্য নয় ; এ চিরকালীন ।