একক কবিতা

 কক কবিতায়                                                      


কবি কেদারনাথ দাস


সিদ্ধান্ত


বাঁকা চাঁদ নৌকো হয়েছে তার,


মেঘে ভেসে ভেসে রূপকথা- শিশু

ভয় দেখিয়েছে কুমারী মাকে যে কত !


বাবা কেন নেই সেই অভিমানে সে 

পালায় আকাশে স্বপ্নের ঘোরে !

মা বলে , আয় খোকা, আমি তো রয়েছি !

কে যে বাবা তার সে কথা যে 

একমাত্র জেনে আছে তাহার কুমারী মা !

হায় শিশু, চায় না সে যীশু হয়ে 

ভালোবেসে দিগ্বিজয়ী হবে !

মেরীর সম্মানও তুমি পাবেনাকো নারী ...

অগত্যা সাহসী হও, 

ধরা দিক কামুক সে প্রেমিক প্রবর



কবি অধীরকৃষ্ণ মন্ডল


তোমার হাতের স্তব              


আত্মমগ্ন রব হারিয়েছে কৃষ্ণ বাঁশি

অথচ সাজানো কুঞ্জে বাতাসের রমণ গমন

ঢেউ দুলিয়ে বল্গা স্রোতে শুধু অট্টহাস।

জেগে ওঠো রব, তোমার বনবিহারের সময়

কতদিন বন্দি থাকবে রাতের জেলখানায়

প্রভাতের সম্ভ্রান্ত জীবন সাজিয়ে গম্ভীর অনুকার

সব প্রকরণ ঢেলে সমুদ্র আজও দুরন্ত পক্ষিরাজ।

তোমার হাতের মুরলী কত সুরের ঐশ্বর্য

ভাঙা উচ্চারণ পদে পদচারণার সময় এখন

তোমার হাতের স্তব নিশি প্রহর জাগে।



কবি অর্ণব আশিক


স্মৃতির তিমির


কতদিন পর দেখা,

ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘের মত অস্পষ্ট তোমার মুখ

বয়সের জীর্ণতা নেই মুখের বলি রেখায়

পেলবতার আচ্ছন্নতা চেনায় কৈশোর ।

কতদিন পর দেখা,

রূপকথার মগ্নতায় তুমি হারালে একদিন

মায়াবি জোছনার মালিকানা এখনো তোমার দেহে

কী এক অন্তর্লীন মুখরতায় মাখা তোমার মুখ

সে পেলবতা সাপের ফণার মত

পয়ারের অন্ধকারে কেবলই ঠোকরায় আমায়

তুমি এক প্রলম্বিত ঝাউবন হাহাকারের ভিতর হারানো 

হারানো ছায়ার আঁকিবুঁকি। 




কবি শান্তনু ভট্টাচার্য 


জন্মকথা


গড়াতে গড়াতে                                                   

ছেড়েছি পিচরাস্তা                                                 

মেঠোপথ ও ধুলো                                                   

 এখন সহযাত্রী।


বেশ কিছুটা দূরে                                                     

বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো                                               

কাঠের নির্জন বনবাংলো।                                         

কটা দিন ছুটি নিলাম তোমাদের থেকে


ইচ্ছে আছে,                                                     

পদ্মসরোবরে ডুব দিয়ে                                         

শূককীট হয়ে যাব শিরীষগাছে


ফেরার সময় হলে--                                             

প্রজাপতি জন্ম হবে আমার...




কবি মোনালিসা রেহমান



মোনালিসা রেহমানের কবিতা 

১.

 অনন্তধারার প্লাবনে কেটে যায় অষ্টপ্রহর

 নিঃঝুম রাতের সাথে  লেগে থাকে 

 দূর্বোধ্যতার ঘ্রাণ...

 

 অবক্ষয়ের নেশায় দিনলিপি বুনে

 শুয়ে থাকে পলকহীন রাত্রি।

২.

তোমার চোখের তারায় জোৎস্নার স্বরলিপি

ভেঙে ভেঙে যে গান রচিত হয়..

আদিম অকৃত্রিম বনভূমির মায়ায় মায়ায়

মুগ্ধতার ভেতর রয়ে যায় অজস্র শূন্যতা 

৩.

নিজেকেই বন্দি করেছি আজ--

এই সংসারে বিমুগ্ধ কিছু ছায়ায় ছায়ায়...

ভণিতাহীন কিছু প্রহরে আতরের গন্ধ মেখে

ফুল পাখিদের সাথে একান্তে... 

৪.

বিমূর্ত বেদনা ঠোঁটে লেগে থাকে

পাখনা মেলে ওড়ে বিহঙ্গ কল্পনায়...

৫.

নিখুঁত বুনোটে  সংসার সাধনা

অন্তিম শিয়রে কিছু বাঁক রেখে যায়

প্রকৃতিপ্রচ্ছদের আড়ালে..



কবি সাকিল আহমেদ


এক চুমুকে


মন খারাপের জন্যে রাখি ছোট্ট বিকেল                     

সই , তুমি কি আমার চা-পাতা হবে ?                     

কয়েক চুমুক গরম গরম ভালবাসার দুদে দাঁতে           

গোল মরিচে একটু লবণ কালো জিরে                     

আদার সাথে তেজপাতারা ভবঘুরে                         

আমার মতন বন্দী হবে, বন্দী হবে?


সই, তুমি কি আমার চা-পাতা হবে ?                           

এক চুমুকে কোয়ারেনটাইন হিমেল হাওয়ায়             

ফুসফুস আজ সচল হবে, শহরটা আজ নীলডাউনে   

অচল হবে। অচল হবে।


বুকের ভেতর বাগান বাড়ি ফুসফুসে তার                   

কোন হানাদার  গাইছে বেহাগ ?                             

চোখের পলক হচ্ছে ভারী, সেই নারী কি আমার হবে?





কবি রুদ্র হাসান


বিবর্ণ বিবেক                                       


আমাকে ঘেরাও করে আছে                             

জীবনের নির্মম বাস্তবতা                                       

উদ্বিগ্ন এবং ক্লেশকর নশ্বরতায়                           

পুড়ছে জীবন অহর্নিশ।


ক্ষুধা যখন কড়া নাড়ে পাকস্থলীর দ্বারে

ভুলে যাই মন্দির, মসজিদ, গির্জার পথ

কল্যাণের পবিত্র আহবান, শঙ্খের মসৃণ সুর এবং ঘন্টার তীব্রধ্বনি

কানের অবচেতন পর্দার বাইরে দিয়ে 

পাশ কেটে যায়।


ঘড়ির ক্লান্তিহীন গোঙানি কেড়ে নেয়

রাতের স্বাভাবিক ঘুম

বুকের উপর দিয়ে হেঁটে যায় পঞ্জিকাবর্ষ।


দূতাবাস ঘেরাও কিংবা জ্বালাও-পোড়াও মিছিলের স্লোগান তাদেরই মানায়

যারা দিনশেষে নিশ্চিন্তে প্রশান্তির নিঃশ্বাস নেয়।


আর আমি নির্নিমিখ চেয়ে থাকি

বিশ্বের বিবর্ণ বিবেকের দিকে।



কবি সুনেন্দু পাত্র


গোধূলি


আজ রাখালের দিন শেষ। শেষ হয়ে যাচ্ছে আমার ধান্যরোপণ পরিবার। 


এক দিন বাতাস যেখানে বয়ে আনতো শস্য আর সমৃদ্ধির গল্প 

আজ সেখানে উড়ছে কৃষকপোড়া ছাই, রক্ত ভেজা মেঠো উপন্যাস। 

তবে সরু, খানিকটা মিহিও বটে। 


চারিদিকে আজ বসন্ত প্রহর ।

গাছেদের সমস্ত পাতা হুমকি দিচ্ছে আত্মহত্যার।

ঢলে পড়ছে শাখা-প্রশাখারাও। 

আর তুমি, সিংসাহনে চুম্বন রেখে স্থির ভাষ্য ছুঁড়ে দিচ্ছো 

গাছেদের মুখে

          শস্যের মুখে। 

                 রক্তশ্রাবী মৃত্তিকার মুখে।


আমরা নেহাৎই পাতাল শিশু 

তাই শুধু দেখছি  

ভিজছি আর

নগ্ন হচ্ছি ক্রমশ। 


কবি শেখ সাদী মারজান                                  


সন্ধ্যার নো‌টি‌ফি‌কেশন


প্রত্যাশার ড্যাশ‌বোর্ড আশানুরুপ নয় 

সংক‌টে সমাধান-ই এখন শ্রেয়

‌বিস্তীর্ণ অন্তর্জা‌লে-  জীবন য‌জ্ঞের 

               পরবর্তী কর্মসূ‌চি ভাব‌ছি।


সংকুচিত ডানার ছোট্ট পা‌খি

একা একা উ‌ড়ে উ‌ড়ে কতদূর যে‌তে পা‌রে?

য‌দিও তার দৃ‌ষ্টিসীমা বহুদূর।


নো‌টি‌ফি‌কেশন ভে‌সে উ‌ঠে

স্মরণ ক‌রি‌য়ে দেয়, সন্ধ্যা আসন্ন                   


কবি চন্দন দাস                                          


স্বপ্নময় হিমবাক্স


কী অপরূপ মোহময়ী শীতের সকাল                       

ঠিক্ রে পড়ছে টুকরো টুকরো  রোদের ওম,           

দেখতে দেখতে গড়িয়ে যায়  দুপুর - বিকেল       

আহাঃ,কী প্রশান্তি ছুঁয়ে যায় দেহ- মনে।


এবার রাত্রি নামবে ধরনীর স্তব্ধ চরাচরে             

হিমবাক্সে বন্দি হবে  মনুষ্যজীবন,                           

পৃথিবীর যাবতীয় সম্পর্কগুলো বুনবে মায়াজাল         

সাড়া দেবে পরমাপ্রকৃতির ডাকে সংসার - সহবাস! 


কয়েকটা দেওয়াল পাহারা দেয় সারারাত           

মানুষেরা শুষে নেয় লেপ- কাঁথা- কম্বলের উষ্ণতা,     

তাপে- উত্তাপে সম্পর্কের ঘনত্ব যায় বেড়ে   

দেওয়ালগুলো কেঁপে ওঠে অলীক ভয়ে!


এখন ভালোবাসার উষ্ণ ঢেউ -জগৎময়         

স্বপ্নকুয়াশার ভিতর থেকে ভেসে আসছে সমুদ্রকল্লোল, দেওয়ালেরা ভাঙছে -ভেঙে পড়ছে অদ্ভুত ভংগিমায়  জানান দিচ্ছে - আজ পুরনো সম্পর্কের গীতল উৎসব!




কবি শকুন্তলা স্যান্যাল


গন্ডমূর্খের কথা


১.

আমাদের ছোটো বড়ো কথাগুলো, 

অনেকটা তরমুজ বীজের মতো,

মিষ্টি সময় নষ্ট করে ।

রক্ত রস থেকে ছিটকে ছিটকে 

এদিকে ওদিকে সেঁটে বসে থাকে স্নেহ,

যখন বীজেরা ভয় ভয়,

কথা গুলো আড়ি পাতে কস্মিনকালে।

আমায় আর ডেকো না গো ষোড়শী মধুবালা, 

তুমি আবাল কল্পনা যত।

ওঁম শুদ্ধ  ,শুদ্ধ বলে ছিটিয়ে নিচ্ছি গঙ্গা জল,

তবে কেনো স্থবির হয়ে যাই!

বাড়াইনা অজুহাত আর কোনো?


আমাদের কথা গুলো যদি কারেন্ট নুন হতো,

জিভে জল এলে রূপকথা-

জাগতো,হয়তো জাগতো!

২.

মাধবী গন্ধের সন্ধ্যা এলেও-

উজবুকের  মতো আমি, 

চুলে আকটে রাখি ব্যাথাভরা কাঁটা।

হয়তো ভাবি সম্পর্ক আটকে থাকবে এতেই।

কন্টাক্ট লেন্স ছাড়া চোখ,

দেখি তো,সম্পর্ক আটকে আছে এতেই



সুরজিৎ প্রামানিক


সমুদ্র উত্তাল হলে



সমুদ্র উত্তাল হলে মন খারাপ হয় পাটাতনের উপর কথপোকথনটুকু 

পড়ে থাকে আমাদের, সেখানেই গার্হস্থ্যের শ্বাস ফেলেছ তুমি 

শতাব্দীর বিপন্নতা থেকে বেরিয়ে যেতে পারছ না, উদ্ভিদ আর পৃথিবী 

উভয়েই পিছলে যাচ্ছে, গনতন্ত্রের স্বাক্ষরে কীট-পতঙ্গের কঙ্কাল  


আমাকে আশ্বস্ত করো, যেখানে তোমার পরিধী আরও বেশি ধারালো 

রাত্রির মতো চিলেকোঠা খোঁজে, আর বিড়ম্বনা নয় ... 

আমার দু'হাতের বাতাস সন্ন্যাসীর পায়ে রেখে তোমাকে পাড় করাব 

বৈতরণী।অঞ্জলির আগেই পুড়ে যেতে পারছে না পাগল

অনির্বাণ ধর্মে তোমাকে ভালোবাসে যারা তারাও তো পাথরের দিকে তাকিয়ে ভেংচায় 


সমর্থন আশা করে কি না অমি জানি না, তবু আমাকে আচ্ছন্ন করে এক 

নিরলস একাগ্রতা। কোনো বিরোধ ছাড়াই তুমিও মৌচাক ভেঙে ফেল 


আর অদেখা পৃথিবী, আমার অপরাধের ঘুম মাটি আর জল চায় 

শৈশবের খাতায় ধূসর ঘাস অন্ধ ভিখিরিও জানে 

তাকে তো বিষন্নই হতে হয়...



কবি শরিশরিফুজ্জামান পল


গহিনের আমি



আমি এক মহান অভিনেতা

সূক্ষ্ম সূক্ষ্মতর অপারদর্শী

খোদা ছাড়া কেউ টের পায়নি

দুঃখের সাথে করি বসবাস।

 

মিথ্যেকে জড়িয়ে সত্যকে আড়াল করি আজীবন

হা হা হা সবাই কতো বোকা পাগল ও অন্ধ।


বিশ্বাস করে আমাকে আলো আঁধারে

চোখটি বন্ধ করে বলি ঠিক ঠিক বোকারা

চোরেরা সম্মানিত বোকার রাজ্যে

আমি তো মহাভণ্ড

আমি তো লোক দেখানো চরিত্রবান

নারে লোক নেই একদমই।

গোপনে মাপি সূক্ষ্মভাবে মাপের নারীর শরীর।

সুযোগে ছাড়ি নাই এক চুলও।



কবি রাজীব পাল


ভাঙা নৌকো, টলমলে সমুদ্র



শূন্যতা ঘেটে ঘেটে

নতুন নতুন নক্ষত্র আবিষ্কার 

এই তার আঙুলের নেশা হাত পুড়িয়ে

গুলিয়ে ফেলা রাস্তায়

দেখা হয়ে গেল যে আবার... 


টলমল করছে একবুক সমুদ্র

ভাঙা একটা নৌকোর সম্পর্ক যতটুকু


সুর সর্বস্ব বাঁশির পাশে 

আর একটা নদীর কাছে

নূপুরের কিছু রচনাবলী ছিল

হরিণের গায়ের মতো রোদের দিনে 

একে অপরের থেকে চোখ তুলে নিয়ে

পড়া শুরু করেছিলাম...


গুলিয়ে ফেলা রাস্তায়

দেখা হয়ে গেল যে আবার     



কবি জামিল আহমেদ


কবর থেকে বেরিয়ে


লাউয়ে লতাগুলো বাতাসের মতো

সুগন্ধি ছড়িয়ে শুয়ে আছে মাটির ওপাশে

কবরের ভেতরে মৃগেল অথবা মৃত্যু

শব্দ করে হাসে

তাদের কম্পমান আহ্লাদ শোনা যাচ্ছে

নীরবতার সাথে পুরোপুরি অন্ধকারে

দোল খায় যেনো ঢেঁকির শাক আর হাতির শুঁড়...


একটি কালো পিঁপড়ে ঘাসের বীজ থেকে বেরিয়ে

ঘাসের একেবারে শীর্ষে উঠে

ইতিউতি তাকায় অবাক হয়ে

যেভাবে আমরা উঁচু মিনারে উঠে

দেখি পৃথিবীকে

তারপর আবার ফিরে আসে নিচে

মাটিতে, কবরের ভেতরে। কবরে।



কবি সুকুমার মিস্ত্রী 


যাচ্ছি


আমি পেরিয়ে যাচ্ছি                                    

একটা অলীক রহস্যে ঢাকা ছায়াপথে;                     

আমি পেরিয়ে যাচ্ছি                                           

মোহময় তমসাছন্ন একটা দিন,                                

আমি পেরিয়ে যাচ্ছি                                 

অনাকাঙ্ক্ষিত একটা আলোর রাত।                       

আমি পেরিয়ে যাচ্ছি                                               

একটা জটিল প্রত্নতাত্ত্বিক সময়! 

আমি রেখে যাচ্ছি                                         

সমাধানহীন আয়ুস্কালের জটিল  সমীকরণ,             

আমি রেখে যাচ্ছি                                                 

আমার অহংকারের যাবতীয় স্থাপত্য।


আমি চলে যাচ্ছি                                                       

সুখ-দুঃখ - অভিমান আর গোপন অশ্রু নিয়ে,           

আমি চলে যাচ্ছি                                                   

সমস্ত অনুশাসন ভেঙে নাস্তিক - স্বভাবদোষে।


আমি দেখছি                                                         

নির্বোধ মানুষের বাড়-বাডন্ত আজ;                           

আমি দেখছি                                                     

অনিবার্য বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের দ্বন্দ্ব,                   

আমি দেখছি                                                             

পথ ভাঙছে- মত ভাঙছে অজ্ঞাতার ভিতর।             

আমি দেখছি                                                         

পথের দু'পাশে অসংখ্য পরাজিত মুখের মিছিল!


আমি টের পাচ্ছি                                                   

আমার চারপাশে  দাঁড়িয়ে  আছে পরিত্রাণহীন একটা জগৎ,                                                                     

আমি টের পাচ্ছি                                                   

আমার আমিত্বকে শুষে  নিচ্ছে  একটা  ব্রম্ভাণ্ড!


আমি আকাশ হ'য়ে যাচ্ছি  ক্রমশ




কবি শাহজাহান সবুজ


কন কনে শীত



কন কনে শীতে

খেঁজুর গাছের রসে

খেতে মজা পিঠে

রসে ভেজা কাস্তে পিঠে

সব্বাই যে চিনে।


কন কনে শীতে

সন্ধ্যা  রসের ঠিলে

দেখলে সবাই আনন্দেই

গ্লাস গ্লাস পানে।


খেঁজুর গাছের কদর বেশী

যশোর জেলায় আছে--

নলেন পাটালী গন্ধে

জামাই আসে শশুর বাড়ী

মেয়ের পিছে পিছে। 


যশোরে জস খেঁজুরের রস

ঐতিহ্য  বহন করছে

মাস বছর কাল।




কবি কৃষ্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়


স্বীকারোক্তি 


জীবনের অনেকটা পথ পেরিয়ে                 

তোমার অকপট স্বীকারোক্তি                                 

মনকে দোলা দিয়ে চলে  গেল                             

জীবনের অনেকটা বোঝা আজ হাল্কা                   

অনেক রোগ নিরাময় হয়ে গেল                                 

মন শীতল শুষমায় ভরে উঠলো                               

এতো দিন  যা তমোসাচ্ছন্ন ছিল                               

আজ তা রৌদ্রজ্জ্বল দিনের মতোই স্বচ্ছ হয়ে গেল     

আজ মুক্ত বিহঙ্গের মতো উন্মুক্ত।                           

বুকের ভিতরের চাপা পাথর টা আজ                         

এই পড়ন্ত বেলায়                                                 

বেড়িয়ে এলো দিগন্ত বিস্তৃত  নীলাকাশের  মতো       

এখন ভোরের আকাশের মতোই নির্মল               

সরোবরে ফুটন্ত কোমল                                           

প্রথম প্রভাতে।






















 



Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

কবি মণিশঙ্কর

কবি রবীন বসু

কবি সপ্তর্ষি রায়