কবি ইন্দ্রজিৎ ভট্টাচার্য
দুটি কবিতায় কবি ইন্দ্রজিৎ ভট্টাচার্য
দুর্বল ছায়াছবি
(জিম মরিশনকে মাথায় রেখে)
শব্দের বৈপরীত্যের মতো পলাশবনের অন্তর চিরকাল বিদ্বেষপূর্ণ
জমে থাকে ক্ষোভ দুঃখ হিংসা
জমতে জমতে সাহসী হয়
ভাঙে, ফাটে প্রবঞ্চনার আত্মতুষ্টিতে
রুচিহীণ ইঁদুরের বিষ, ঝরা হলুদ পাতা
খসে পড়া ময়ূরের পালক অথবা
সাপের খোলস থেকে চামড়া চাঁচা,
সবই আপাত: বাস্তব ছায়াছবি।
রজঃস্রাবের তরল থেকে বিভাজিত রক্ত
পদার্থের ঐশ্বর্য এবং শকুনের পানীয়।
মলত্যাগের পূর্বে বেড়ালের মাটি আঁছড়ানো
এক অভিনব প্রতিবাদ।
অবশেষে আঁচড়ানো কামড়ানো ঝিমিয়ে পড়ে
আশাবাদের ঝুলন্ত আপেল জ্ঞানে
মাছের পেট চিরে শকুন্তলার আংটি খুঁজতে গিয়ে দেখি আজকের কবিতা জন্ম নেয়
তাই শেষ কবির শেষতম কবিতা একবার পড়তে চাই।।
বিবাদ দীর্ঘজীবী হোক
১.
জটিল আনন্দের উৎস খুঁজতে খুঁজতে দেখি
সিড়ি ভাঙা অংকের মতো নেমে গেছে
নাভি থেকে কোমর ছুঁয়ে উরুর ভাঁজে
সেখানেই রুক্ষ উর্বরতায় ক্রুসেডের সূচনা
আটশো বছর আগে সালেপের স্রোতে
ভেসেছিল ফেড্রিকের রক্তে ভেজা অব্যক্ত ঠোঁট
আজকের সেই ঢেউয়ে কোন উচ্ছ্বাস নেই,আছে আছাড়ের ফেনা
২.
যতো বিবাদ এখানেই
মানুষ অস্ত-সূর্যের সাথে ঘড়ি মেলাচ্ছে
স্বপ্ন দেখার জন্য অন্ধকারের অধীর প্রতীক্ষায়
আধখাওয়া ডিমের কুসুমরঙা পড়ন্ত বিকেলে
চারিদিক অখণ্ড ভূমিপুত্রের মতো রক্তিম শূণ্যতা
এরপর জংধরা জ্যোৎস্না এসে প্রলেপ লাগাবে
৩.
অন্ধকার যদি নাও আসে তাকে জানাবো না
জানাবো না প্রয়োজনের কথা, যদি সে অবহেলা করে
এ তার জন্মগত অধিকার, চাহিদা তাকে যোগ্যতা দিয়েছে
সুতরাং বিবাদ দীর্ঘজীবী হোক
গলা অবধি অভিমানে জমা হোক পুরানো শীতের সংরক্ষিত হিম অভিমান

Comments
Post a Comment