কবি মাহফুজ মুজাহিদ
দুটি কবিতায় কবি মাহফুজ মুজাহিদ
বাবা
যে সাইকেলের চাকা প্রতিদিন বাইশ মাইল পথ পাড়ি দিয়েফিরে আসতো রোজ বিকেলে, সে আমার বাবা।
দিন শেষে সোনারোদ মেখে যে ফিরে আসতো
সুশোভিত বাগানের ভেতর,
সকালের কুসুম রোদে ভিজে
হাত ধরে মিষ্টি-পরোটার আসরে নিয়ে যেতো,
শস্যজমিনের মাটি লেগে থাকা হাতে
যে আমায় জড়িয়ে নিতো, সে আমার বাবা।
কবিতার উচ্চারণে যে আমাকে মানবতা শেখালো,
সে আমার বাবা।
পৃথিবীর পথে যার আঙ্গুলে আঙ্গুল রেখে হেঁটে যাই,
সে আমার বাবা।
আমার উচ্চারণে, কলমে, কাগজে, হৃদয়ে যে ছবি
তুমি আমায় দেখো, দেখবে আমি নই
তোমার চোখে ফুটে ওঠবে আমার বাবা...
রূপসীকথা
চন্দ্রমুখীর কালোরঙা ছুঁয়েনামে জল; ভীষণ অমাবশ্যার অন্ধকারে হীরক চমকানো রূপ জ¦লে ওঠে চোখে। পানাফুল শাড়ীর আঁচল চুয়ে চুয়ে আগুন নেমে আসে পাঁপড়ির ডগায়। ঘুমন্ত নগরের বুকে তখন যাচ্ছেতাই ঘটে গেছে রক্তের স্ফুলিঙে। মখমলের বুলেট; যে ক্ষরণ শরীরের ত্বকে ছিন্নভিন্ন করে হৃদয়ের দেহ-- সে শুধু একবার ছুটে এসে ফিরে গেছে গন্তব্যে।
চন্দ্রমুখী দুপুরের অন্ধকার ছিঁড়ে খায়; ক্ষুধার কামনায় জলের ডুব খায়; হাঁসের পাখনায় জলফুল ছুঁড়ে খেলা করে; কণ্ঠে কলমিলতা তুলে, ঘাসফুল নাকে দুলিয়ে, রক্তজবা কানে সে বেনী দুলিয়ে মেতে ওঠে হলদে জমিনে। শরমী সবুজ বুকে তুলে ঘাসের ওড়না ঢাকে মুখ।
চন্দ্রমুখী-- কালোরঙা টিপ। চোখের কাজল। দিগন্তে উড়া মেঘ অথবা লম্বা কালো চুল। চন্দ্রমুখী সুউচ্চ সবুজ, এঁকেবেকে জল, নীলের বিশাল। স্তনের শৈষ্ঠবে ছড়ানো রূপ; জংঘার আঁড়াল সুধা।
বাঁশির রাগে বিবাগী ছুটেচলা মাঠে; ঘাসের রাখাল; নিতম্ব দোলানো পুষ্ট শরীর। শিৎকারে শিৎকারে মেতে থাকা রাতঘুমের উন্মাদ। চন্দ্রমুখী; সহাস্যে হতে পারে যে কোনো প্রেমিকা। যে কোনো বুকের আসন কেড়ে নিয়ে উবে যাওয়া ঘুম।
চন্দ্রমুখী-- আমার মা। যার বুকে আমার জন্ম-মৃত্যু-ঘুম...

Comments
Post a Comment