সম্পাদকীয়

 


কিছু বলা কথা....


দূরে মেঠোপথ ধরে হেঁটে হেঁটে চলে যাচ্ছে শেষ বিকেলের রোদ।তীব্র দহনের শেষে সূর্যাস্তের ফাগ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এমন দৃশ্যে কী লিখতেন ভাবছি না। কিংবা একবারের জন্য মনে করতে চাইছি না কবি জীবনানন্দ দাশ এরকম আবহে কতটা বেসামাল হতে পারতেন মানসিকভাবে।ভাবছি কেবল এই বসন্তের শুভেচ্ছা সফরে আমরা সকলে যতটা না আনন্দিত, আনমনা । তার থেকেও বেশি নানা ছন্দে(!) পীড়িত, আতঙ্কআবিষ্ট। তবু, বসন্ত তো বসন্ত-ই....


সকলেই বুঝি 'বসন্ত' অর্থে নতুন করে উন্মোচন। পুরানো সব কিছু ফেলে দিয়ে নতুনের আবাহন।পূর্ণ হয়ে ওঠা, সার্বিকভাবে।আর, সেই পরিপূর্ণতার পথ ধরে আপনাদের প্রিয় পত্রিকা 'নৌবত' তার চতুর্থ সংখ্যা নিয়ে পা রাখল আপনাদের দরজায়। আশা করি, আগের মত সে ভালবাসার ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত হবে না।

তবু তো একটু হলেও খটকা থেকে যায়! কারণ, বাংলা ছোট পত্র-পত্রিকা নিয়ে স্বদেশ-বিদেশে যা হয় বা হচ্ছে তার জন্য কে বা কারা দায়ী সে প্রশ্ন তোলা অবান্তর।অথচ, দুই বঙ্গে কখনো কখনো এদের (এঁদের) প্রতি যে  আচরণ নেমে আসে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাই....


পাশাপাশি, এখন এদেশের অন্যান্য কয়েকটি প্রদেশের মত বাংলা প্রদেশের আবহ কাঁপছে গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতে। বাতাসে  'দলবদলু', 'ফুলবদলু' সহ বিভিন্ন শব্দের নতুন সমাহার।অন্যদিকে 'মারী' তার তীব্রতা নিয়ে দ্বিতীয় পর্বে আরও নির্দয় হয়ে উঠছে। শতাধিক দিন ছাড়িয়ে গেল আমাদের শস্য তৈরির শিল্পীরা রাজপথে। দেশের প্রান্তে প্রান্তে কর্মহীন মানুষের হাহাকার, বেকারত্ব চরমভাবে পর্বতশীর্ষে, অগ্নিমূল্যকেও ছাড়িয়ে চলেছে তেল ও দ্রব্যের সংসার। অথচ, প্রতিশ্রুতি নির্লজ্জ, নির্বিকারহীনভাবে প্রবহমান।


আহা রে মানবজীবন! ক্ষতময় হে মানবজমিন!


পরিত্রাণের পথ কী!পথ কোথায়? এসব ভাবতে ভাবতে  অনেক কিছুর মতও কি ঘুমিয়ে পড়ে আমাদের সংস্কৃতি,শিল্প! কিংবা কবিতার জগৎ? চিৎকার করে বলতে পারছি কই - 'না-না-না'। কারণ বিশ্বাস, ম্রিয়মাণ হলেও তারা জেগে আছে,থাকে ফিনিক্স পাখি হয়ে।তাই তো সভ্যতা আজও সচল,সজীব।


'নৌবত ' ও তার কবি-লেখকবন্ধুরা এই বোধে চির অটল বলেই এই ধারাস্নান কিছু "কবিতাকবিতা-গদ্যের" উষ্ণ স্রোতে। শুভেচ্ছা ও শুভকামনা...


Comments

  1. সুন্দর আর বিষয়ানুগ সম্পাদকীয়। অভিনন্দন জানাই।

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

কবি মণিশঙ্কর

কবি রবীন বসু

কবি সপ্তর্ষি রায়